Home / অর্থনীতি / ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি, ৪ লাখ কোটির পুন...
অর্থনীতি Breaking Featured Trending

ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি, ৪ লাখ কোটির পুনঃতফসিল সুবিধা

দেশের ব্যাংকগুলো খেলাপি কমাতে ঋণ পুনঃতফসিল বাড়িয়েছে। গত বছর ব্যাংকগুলো ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়েছে।
News Desk 17 Jun 2026, 05:15 AM ঢাকা 1 views
ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি, ৪ লাখ কোটির পুনঃতফসিল সুবিধা

দেশের ব্যাংকগুলো খেলাপি কমাতে ঋণ পুনঃতফসিল বাড়িয়েছে। গত বছর ব্যাংকগুলো ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়েছে।

এতে করে ব্যাংক খাতে গত বছর শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

এর আগে, ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানিয়েছে আমার দেশ।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়।

২০২২ সালে ৪৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৭৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৫৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে করা হয় ৯৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংক খাতের পুনঃতফসিল ঋণের ৫৭ শতাংশ শীর্ষ ১০ ব্যাংকে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার পরিমাণ বাড়ছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে খেলাপি ঋণ কম দেখাতে নানা রকম ছাড় দেওয়া হয়। বিশেষ করে ২০২২ সালের জুলাইয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পুরো ক্ষমতাই ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। কারণ, ব্যাংকের পর্ষদই এখন খেলাপি ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত দিতে পারছে।

আবার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা আসার কারণেও ঋণ নিয়মিত রাখতে পুনঃতফসিল সুবিধা দিতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এছাড়া বিগত সরকারের সময়ে এ সংক্রান্ত নীতিমালাও শিথিল করা হয়। মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে চার শতাংশ অর্থ জমা দিলেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পেত।

তবে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে অথবা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুযোগ দিতে নীতিমালায় পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র দুই শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিয়মিত করার সুযোগ দেয়। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি (গ্রেস পিরিয়ড) পাওয়া যায়।

প্রথম দফায় গত বছরের জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক খেলাপি ছিলেন; তারাই এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। পরে এ সময়সীমা ওই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্ব শেষ গত মাসে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে তা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জানা গেছে, নীতি-সহায়তার আওতায় এক হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন আসে। এর মধ্যে ৩০০টি গ্রুপের ৯০০টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ২৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

পুনঃতফসিল ঋণের ৪০% খেলাপি

ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, তার মধ্যে আবার খেলাপি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এই ঋণের মধ্যে এক লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা আবার খেলাপির খাতায় উঠেছে।

এর বাইরে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা মোট পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি পুনঃতফসিল ঋণ যে খাতে

আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, উৎপাদনশীল খাতের উদ্যোক্তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন।

২০২৫ সাল শেষে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ স্থিতির মধ্যে ২৯ দশমিক ৫৬ শতাংশই ছিল শিল্প খাতের। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত, ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এছাড়া পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ চলতি মূলধন, আমদানিতে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ, বাণিজ্যিক ঋণে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ নির্মাণ, ৩ দশমিক ০১ শতাংশ কৃষি খাতে, জাহাজ নির্মাণে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ১৭শতাংশ অন্যান্য খাতে।

দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ১০ লাখ কোটি টাকা

পুনঃতফসিলকৃত ঋণকে 'স্ট্রেসড' বা 'দুর্দশাগ্রস্ত' হিসেবে দেখায় আইএমএফ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

একই সময়ে পুনঃতফসিলকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আদায় অযোগ্য হওয়ায় ব্যাংকগুলো ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংক খাতে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকার ঋণ এখন ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্দশাগ্রস্ত।




Tags
ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ১০ লাখ কোটি ৪ লাখ কোটির পুনঃতফসিল সুবিধা
Share this news

Comments

Join the discussion with respectful feedback.

0 Approved
Replying to
Please enter your name.
Your comment will appear after approval. 0/2000
Please write your comment.
No comments yet

Be the first to join the discussion.

News Information

Reporter
News Desk
Category
অর্থনীতি
Published
17 Jun 2026
নোটিফিকেশন ডেমো ✅