শূন্যরেখায় থাকা এক মায়ের আকুতি ‘আমগোর জীবন গেলে যাক, বাচ্চা দুইডারে বাঁচাইন’
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ছয় ব্যক্তি তিন দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী আছেন। খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো এসব মানুষের একজন সুমি আক্তার (২৫) আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘ভাই, আমগোর জীবন গেলে যাক, আমগোর বাচ্চা দুইডারে বাঁচাইন। এভাবে আর দুইডা দিন ফালায় রাখলে বাচ্চাগুলো মরে যাবে।’
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকার শূন্যরেখায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৬ জন অবস্থান করছেন। তাঁদের চারপাশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া সামান্য খাবার ও পানি খেয়ে তাঁরা দিন কাটাচ্ছেন।
সুমি আক্তার বলেন, ‘তিন দিন হইল সীমান্তে বইসা আছি। কোনো দেশেই নিচ্ছে না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ারও উপায় নাই। চারদিকে দুই দেশের বাহিনী ও মানুষ ঘিরে আছে। না খাইতে পেরে বুকের দুধ শুকায় গেছে। বাচ্চাডা ঠিকমতো দুধ পায় না।’
সেখানে দেখা যায়, সুমি আক্তারের বড় মেয়ে ফাতেমা খাতুন (৫) বাবার কোলে শুয়ে আছে। ছোট শিশু ফাহিমা খাতুন বারবার কান্না করছে। সুমি কখনো তার মুখে পানি দিচ্ছেন, কখনো বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে অপুষ্টি ও খাদ্যসংকটের কারণে শিশুটিকে ঠিকমতো বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
পুশ ইন চেষ্টার শিকার ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (৩৫), তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫), তাঁদের দুই সন্তান ফাতেমা ও ফাহিমা এবং একই গ্রামের সজীব মিয়া (২৬) ও হিমেল মিয়া।
No comments yet
Be the first to join the discussion.